ওয়েবসাইট (Website) কি? 

ওয়েবসাইট সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ।



ওয়েবসাইট (Website) কি?

সাধারনত, ওয়েবসাইট হলো কোন নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভারে রাখা বিভিন্ন ধরনের ওয়েব পৃষ্ঠা, আপলোড কৃত ছবি, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য বিষয় ।

যেমনঃ  Infographic, GIP, Animation ইত্যাদি ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টিকে বোঝায়, যা আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা অন্যন্য স্মার্ট ডিভাইসের এর মাধ্যমে এক্সেস করে দেখতে পারি।

একই ডোমেইনের অধীনে একাধিক ওয়েবপেজের সমষ্টিই ওয়েবসাইট ।
ওয়েবসাইটে প্রথম ঢুকলে যে পেজটি প্রদর্শিত হয় সেটিকে হোমপেজ বলা হয় ।
সারা বিশ্বে প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে ।

আর ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইট অ্যাক্সেস করাতে হলে আপনাকে নিচের ৩ টি কাজের মধ্য দিয়ে এগোতে হবেঃ
১। প্রথমত একটি ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ।
২। ভালো মানের হোস্টিং ভাড়া নিতে হবে ।
৩। ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে হবে ।

ওয়েব পেজ (Web Page) কি?

একটা ওয়েবসাইটে বেশ কিছু ওয়েব পেজ বা পৃষ্ঠা থাকে । ওয়েব পেজ বা পৃষ্ঠা মূলত একটি html document যা http protocol এর মাধ্যমে ওয়েব সার্ভার থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ওয়েব ব্রাউজারে স্থানান্তরিত হয়। আর এই সমস্ত উন্মুক্ত ওয়েবসাইট গুলিকে সমষ্টিগতভাবে  “WWW” অর্থাৎ
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা বিশ্বব্যাপী জাল (World wide web) নাম বলা হয়ে থাকে।

যতই দিন যাচ্ছে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার ততই  বৃদ্ধি পাচ্ছে । তাই বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগের পাশাপাশি, ব্যবসায়ীক কাজের জন্যও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েই চলেছে ।
প্রতিটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সবার সামনে প্রকাশ করছে । ফলে তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা প্রসার সহ নানাবিধ সুবিধা পাচ্ছে ।

ওয়েবসাইট (Website)কত প্রকার ও কি কি ?
ওয়েবসাইট ২ প্রকার :
১.স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট
২.ডাইনামিক ওয়েবসাইট

স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট : 
যে সকল ওয়েবসাইটের ডেটার মান চালু করার পর থেকে পরিবর্তন করা যায় না তাকে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট বলে । এই ওয়েবসাইটগুলিতে ইন্টারএক্টিভ
ফাঙ্কশনালিটি থাকে না।

যেমন : শুধুমাত্র HTML দিয়ে তৈরী ওয়েবসাইট

ডাইনামিক ওয়েবসাইট : 
যে সকল ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা ডাটা চালু অবস্থায় ওয়েবসাইট পরিবর্তন করা যায় তাকে ডাইনামিক ওয়েবসাইট বলে । এই ওয়েবসাইটগুলিতে ইন্টারেক্টিভ ফাঙ্কশনালিটি যুক্ত থাকে ।

যেমন: HTML,PHP,ASP,JAVA,CSS ইত্যাদি দ্বারা তৈরি ওয়েব সাইট

ওয়েবসাইট যেসব ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায় ?

কত প্রকারের ওয়েবসাইট আমরা প্রত্যেকদিন ব্যবহার করছি, সেটা জানেন তো ?
প্রায় প্রত্যেক দিন আপনি কিছু না কিছু তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ইন্টারনেটের ব্যবহার অবশই করেন এবং বিভিন্ন ধরণের blogs বা ওয়েবসাইটের ব্যবহার করেন।
এমনিতে, ইন্টারনেটে কেবল blog website বা search engine website অনেক জনপ্রিয়।
তবে, এগুলির বাইরেও অনেক প্রকারের ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে রয়েছে এবং প্রায় প্রত্যেক দিন, আমরা তাদের ব্যবহার করছি।

ওয়েবসাইটকে নয়টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়ঃ

1. সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট (Search Engine Websites)
2. পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট (Personal Blog websites)
3. ইমেজ গ্যালারি ওয়েবসাইট (Image gallery websites)
4. সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট (Social networking websites)
5. অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট  (Online shopping websites)
6. অনলাইন দিরেক্টরি ওয়েবসাইট (Online directory websites)
7. কোশ্চেন অ্যানসার ফরম ওয়েবসাইট (Question answer Forums websites)
8. কোম্পানি ওয়েবসাইট (Company websites)

সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট  (Search Engine Websites)

যেভাবে, আপনারা আমার এই আর্টিকেল পড়ার আগেই হয়তো Google search এ গিয়ে সার্চ করেছিলেন যে “website মানে কি“.সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট গুলি ব্যবহার করা হয় ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য খোঁজার জন্য।তারপর হয়তো, Google আপনাদের আমার এই ওয়েবসাইটের পরামর্শ দিয়েছে।এই ধরণের search engine website প্রত্যেক দিন প্রায় 1 billion থেকেও বেশি লোকেরা ব্যবহার করেন।এমন কিছু search website হলো, “Google search“, “Yahoo” এবং “bing search engine“.
হতে পারে, আপনিও এদের মধ্যে বেশিরভাগ সার্চ ইঞ্জিন প্রত্যেক দিন ব্যবহার করেন।
পৃথিবীতে যেকোনো জিনিসের ব্যাপারে যেকোনো তথ্য খোঁজার জন্য আপনারা এই ধরণের সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারবেন।

এবং, এই সার্চ ইঞ্জিন গুলির মধ্যে Google search, সব থেকে বেশি জনপ্রিয় ও প্রচলিত।
মনে রাখবেন, search engine website গুলিতে, আপনারা তাদের নিজের তৈরি করা কোনো রকমের কনটেন্ট বা তথ্য পাবেননা।Search engine গুলি কেবল আপনার সার্চ করা শব্দ বা প্রশ্নের সাথে জড়িত অন্যান্য ওয়েবসাইট গুলির ব্যাপারে আপনাকে বলবে।যাতে, আপনি আপনার প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেয়েযান।

পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট (Personal Blog websites)

প্রায় কিছু বছর আগের থেকেই blogs বা blog website গুলির জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে এসেছে।
কারণ, এই ধরণের ব্লগ ওয়েবসাইটে কেবল কনটেন্ট এবং প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে।
যেমন, text, images, videos এবং graphics.উদাহরণ স্বরূপে, আমার এই ওয়েবসাইটটি একটি personal blog website.

এখানে আমি, আমার প্রিয় বিষয় গুলি নিয়ে আর্টিকেল লিখি এবং আমার ব্লগে আশা ভিসিটর্স দেড় সাহায্য করি।সব কিছুই আমি নিজেই করছি এবং তাই এটা আমার একটি personal blog বা website বলা যেতে পারে।একটি personal blog জেকেও অনেক সহজে “blogger.com” থেকে তৈরি করে নিতে পারেন।এবং, নিজের পছন্দের যেকোনো বিষয় যেমন, “internet”, “technology”, “blogging”, “education” বা অন্য যেকোনো বিষয় নিয়ে তথ্য নিজের ব্লগে পাবলিশ করতে পারবেন।

ইমেজ গ্যালারি ওয়েবসাইট (Image gallery websites)

আপনারা ইন্টারনেটে অনেক সময় ছবি বা wallpapers অবশই সার্চ করেই দেখেছেন।
যদি করেছেন, তাহলে হয়তো অনেক ধরণের image বা wallpaper websites ও আপনাদের চোখে অবশই পড়েছে।এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলিতে কোনো ধরণের তথ্য আপনারা পাবেননা।
তবে, হাজার হাজার অন্য অন্য ছবি দেখতে পাবেন, যেগুলি নিজের কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ডাউনলোড করতে পারবেন।এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলিকে image gallery sites বা stock image ওয়েবসাইট বলা হয়।

উদাহরণ স্বরূপে, pixabey, pexels, unsplash এবং আরো অন্যান্য ওয়েবসাইট হয়েছে।

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইট  (Social networking websites)

এই ধরণের ওয়েবসাইট এখনকার দিনে অনেক প্রচলিত ও জনপ্রিয়।
যেমন, Facebook, Twitter বা Instagram.

এই ধরণের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট, লোকেরা ব্যবহার করেন, ইন্টারনেটে বিভিন্ন লোকেদের সাথে কথা বলার জন্যে, একজনের সাথে আরেকজন ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্যে এবং দেশ বিদেশের নতুন নতুন লোকেদের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুত্ব করার জন্যে।
তবে, একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট তৈরি করাটা সবের পক্ষ্যে সম্ভব না।বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় social networking website হলো “Facebook“.

অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট  (Online shopping websites)

অনেক বছর আগে, এই ধরণের  অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট গুলির চাহিদা বা ব্যবহার তেমন বেশি পরিমানে হতোনা যদিও, এখনকার দিনে এর চাহিদা প্রচুর।

প্রায় লক্ষ লক্ষ লোকেরা প্রত্যেকদিন কোননা কোনো অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট ব্যবহার অবশই করছেন।অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট  গুলির কাজ হলো, “ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য (product) বিক্রি করা।আজ আপনারা নিজের আসে পাশে থাকা দোকানেও যেটা পাবেননা, সেটা অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট গুলিতে পেয়ে যাবেন।এরকম কিছু জনপ্রিয় শপিং ওয়েবসাইট কিছু হলো, amazon.com, flipkart.com, amazon.in, snapdeal.com এবং আরো অনেক।

অনলাইন দিরেক্টরি ওয়েবসাইট  (Online directory websites)

একটি directory website হলো এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে অনেক ধরণের ওয়েবসাইটের তালিকা বা সূচি থাকে।এই ওয়েবসাইট গুলির তালিকা গুলি বিভিন্ন বিষয়ের ওপরে তৈরি করা থাকে। কোশ্চেন অ্যানসার ফরম ওয়েবসাইট (Question answer Forums websites)এই ধরণের ওয়েবসাইট গুলি ব্যবহার করা হয় একটি অনলাইন প্রশ্ন উত্তর এর মাধ্যম হিসেবে।

মানে, এমন একটি ওয়েবসাইট যেখানে লোকেরা অনলাইন একজন আরেকজনের সাথে text messages এর মাধ্যমে কথা বলতে পারেন, যেকোনো বিষয় নিয়ে তাদের পরামর্শ, রায় বা সমাধান দিতে পারেন।এই ধরণের forum websites গুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় কোনো সমস্যার সমাধান বা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যে।এমন কিছু জনপ্রিয় forum website এর নাম হলো – “Quora” এবং “Yahoo answers“.

কোম্পানি ওয়েবসাইট  (Company websites)

একটি কোম্পানি ওয়েবসাইট সাধারণ একটি ওয়েবসাইট যেখানে যেকোনো কোম্পানির ব্যাপারে তথ্য প্রদান করা হয়।এই ধরণের company website ২ থেকে ১০ টি পেজের ভেতরেই বানানো থাকে।
কেননা, বেশিরভাগ কোম্পানি ওয়েবসাইট গুলিতে আপনারা home page, about us, CONTACT US, PRIVACY & POLICY, Services এবং এই ধরণের কিছু তথ্য পাবেন।তাই, company website গুলি কেবল কিছু page দিয়ে তৈরি অনেক সাধারণ ওয়েবসাইট থাকে যেখানে সেই কোম্পানির কিছু সাধারণ তথ্য দেয়া থাকে।

ওয়েবসাইট থাকার সুবিধাঃ

বর্তমানে ইন্টারনেটের এ যুগে সবচেয়ে স্বল্প খরচে তথ্য প্রকাশ করার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ওয়েবসাইট ।ওয়েবসাইটের বহু সুবিধা রয়েছে ।

যেমনঃ -
১। স্বল্প ব্যয়ে কোন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার প্রসারের জন্য ওয়েবসাইট ব্যাবহার করতে পারে ।
প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে অনেক কম খরচে আকর্ষণীয় সাইট তৈরি করা যায় ।
২। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য যে কেও যেকোন স্থান থেকে যে কোন সময় দেকতে পারে ।
৩। ওয়েবসাইটে তাৎক্ষনিক তথ্য প্রকাশ করা যায় ।
৪। ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করা যায় ।
৫। ওয়েবসাইটে লেখা, অডিও, ভিডিও, স্থির চিত্র, অ্যানিমেশন ইত্যাদি যুক্ত করা যায় ।
এছাড়াও আরও অনেক কাজ করা যায় ।